মেনু বন্ধ করুন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর হাতে খড়ি।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

আমাদের দেশে চাকরীর বাজার খুব খারাপ। তার মধ্য ফ্রিল্যান্সিং এ রয়েছে যথেষ্ট প্রতিযোগিতা। ফ্রিলান্সিং বা আউটসোর্সিং করার জন্য প্রয়োজন অনেক সময় এবং অনেক দক্ষতা। তাই অনলাইনে আয়ের অন্যতম একটি সহজ উপায় হচ্ছে আফিলিয়েট মার্কেটিং। আফিলিয়েট মার্কেটিং এ রয়েছে অনেক সুবিধা যেমনঃ ব্যক্তি স্বাধীনতা, সকল প্রকার পণ্য বিক্রয়, অর্ডার প্রসেসিং এর কোন ঝামেলা নেই, যে কোন যায়গায় বসে কাজ করার সুবিধা। এছাড়াও রয়েছে অধিক আয়ের সম্ভাবনা যেখানে রয়েছে এটাকে রেগুলার ব্যাবসায় পরিণত করার সুযোগ। এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এই

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল এমন একটি প্রকৃয়া, যে প্রকৃয়ায় অনলাইনে কোন সেবা বা পন্য দ্রব্যের প্রস্তুতকারক/বিক্রেতার মার্কেটিং প্রতিনিধির মত কাজ করে তার পন্য বা সেবা বিক্রয় করে দিয়ে; বিক্রিত পন্য বা সেবার বিক্রয় মূল্যের নির্দিষ্ট একটি অংশের ভাগ হিসেবে নগদ অর্থ বা অন্য কোন সেবা ফ্রি তে পাওয়া। যেমন ধরুনঃ www.daraz.com, এই ওয়েব সাইটটির নাম আমরা কম বেশি সবাই জানি। এখানে কি হয় তাও জানি। এখানে অনেক পন্য আছে যা আমরা অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসে অর্ডার করলেই পিজা ডেলিভারির মত www.daraz.com থেকে পন্যটি আমাদের ঘরে চলে আসে।

এখন মনে করুন আমার এই ওয়েব সাইটে প্রতিদিন ৪ হাজার মানুষ বিভিন্ন কারনে আসেন এবং আমি যদি আমার এই ওয়েব সাইটে www.daraz.com থেকে নেওয়া কোনো পন্যের বিজ্ঞাপন আমার ওয়েব সাইটে লাগাই বা শেয়ার করি তাহলে অবশ্যই ৪ হাজার মানুষের মধ্য ৮ ১০ জন মানুষ www.daraz.com এর ঐ পন্য কিনতেও পারে। এবং আমার ওয়েব সাইটের মাধ্যমে যদি www.daraz.com সাইটের কোনো পন্য বিক্রয় হয় তাহলে আমি ঐ পন্যের আসল দামের ১০%, ১৫%, ২০% বা নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ পাবো।

অর্থাৎ
পন্যের বিক্রয় মূল্য যদি হয় ৩৭০ টাকা,
তাহলে
১০% হারে আমি পাবো ৩৭ টাকা
১৫% হারে আমি পাবো ৫৫.৫ টাকা এবং
২০% হারে আমি পাবো ৭৪ টাকা।

এখন কথা হল ১০, ১৫ বা ২০ পারসেন্ট এর এই পরিমাণ টা আগেই নির্ধারন করা থাকে। আমি যদিও জানি না www.daraz.com কত পারসেন্ট কমিশন কিংবা আদৌ তাদের অ্যাফিলিয়েট সিস্টেম আছে কি না। না জানার কারন হল আমি বাংলাদেশি ভিজিটর নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করি না আর www.daraz.com এর সব ক্রেতা বাংলাদেশী। বাংলাদেশী ভিজিটর নিয়ে কাজ না করার কারন বাংলাদেশে অনলাইনে কেনা কাটা এখন ও তেমন জমজমাট হয় নি আর তাই বাংলাদেশী অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেসে কমিশন এর পরিমান ও নগন্য।

এখন আপনাদের মনে আরও একটি প্রশ্ন জাগতে পারে যে,

ওয়েব সাইটে বিজ্ঞাপন লাগালে বা শেয়ার করলে কি আসলেই বিক্রয় হয় ?

হ্যাঁ ভাই আসলেই বিক্রয় হয়। রিলেটেড বিজ্ঞাপন লাগালে ঠিকই বিক্রয় হয়। যেমন ধরুন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ওয়েব সাইটের প্রয়োজন হয়। আর ওয়েব সাইটের জন্য ডোমেইন এবং হোস্টিং লাগে। এই ডোমেইন এবং হোস্টিং নেওয়া যেমন সহজ তেমন আবার কঠিন। অনেক কিছু বিবেচনা করে এগুলো কিনতে হয়। আমি এই লাইনে প্রায় ৩ বছর যাবত আছি। ডোমেইন এবং হোস্টিং এর খারাপ এবং ভালো কম বেশি আমি বুঝতে শিখেছি। তাই ডোমেইন এবং হোস্টিং রিলেটেড আমার কোন পোষ্ট এ যদি আমি কোন ডোমেইন এবং হোস্টিং সেলার এর বিজ্ঞাপন দেই বা আমি যদি কোন ডোমেইন এবং হোস্টিং সেলারকে ভাল বলি তাহলে আপনারা অনেকেই হয়তবা আমার দেখিয়ে দেওয়া ডোমেইন বা হোস্টিং প্রভাইডার এর কাছ থেকে ডোমেইন বা হোস্টিং কিনবেন এবং আমি এর থেকে এফিলিয়েট সিস্টেমে কমিশন বা লাভ পাবো। যেমন ধরেনঃ আমি www.digitalocean.com এর Cloud Hosting ব্যাবহার করি। ডিজিটাল ওসান এর অ্যাফিলিয়েট সিস্টেম হলো আমার রেফারেল লিংক দিয়ে কেউ যদি তাদের কাছ থেকে হোস্টিং কেনে এবং সর্বনিম্ন ৩মাস তাদের হোস্টিং ব্যাবহার করে তাহলে ডিজিটাল ওসান আমার বর্তমান হোস্টিং প্ল্যান এ ২ মাসের জন্য হোস্টিং বিল ফ্রি করে দিবে। মজার ব্যাপার কেউ যদি আমার অ্যাফিলিয়েট লিংক থেকে হোস্টিং কেনেন তাহলে তিনিও আবার ১৫ ডলার বোনাস পাবেন। আর যদি এফিলিয়েট লিংক ছাড়াই কেনেন তাহলে কোনো বোনাস ই পাবেন না। আপনাদের জন্য এত কষ্ট করে লেখা লেখি করছি আশা করি কেউ যদি www.digitalocean.com থেকে হোস্টিং এবং নেমসিলো থেকে ডোমেইন কেনেন তাহলে আমার অ্যাফিলিয়েট লিংক ব্যাবহার করেই কিনবেন।

আমার মনে হয় আপনি এখন মোটামুটি ভালোভাবেই বুঝতে পারেছেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং ওয়েব সাইটে বিজ্ঞাপন লাগালে বা শেয়ার করলে যে আসলেই সেল হয়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংও আবার অনেক ধরনের। এফিলিয়েট মার্কেটিংও এর মাঝেও প্রকারভেদ আছে? মনের ভেতর এমন প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক? কোনো সমস্যা নেই, সকল প্রশ্নের উত্তরই আমার কাছে আছে। তাহলে চলুন এবার একটু দেখে নেই

বিভিন্ন পদ্ধতির অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অনেক ধরনের পন্য বা সেবা নিয়েই এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং টা করা যায়। অনেক কিছুর মধ্যে আমার ভালো লাগা ৩ টি সেক্টর আপনাদের সাথে শেয়ার করি

১. পন্য বা সেবা বিক্রির মাধ্যমে
২. রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে
৩. ডাউনলোড এর মাধ্যমে

আশা করি এখন আপনারা বুঝতে পেরেছেন কোন কোন উপায়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা। আমি বলছিনা যে শুধু এই তিন উপায়েই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা যায়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংএর আরোও অনেক উপায় আছে যা আপনি কাজ শুরু করলেই বুঝা শুরু করবেন।

আমি কি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে পারব?

নতুন নতুন সবার মাঝেই এই প্রশ্নটা খুব বেশি কাজ করে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার যদি হতে চান তাহলে নিচের লেখা পয়েন্ট গুলো ভালো করে দেখুন যদি এগুলো আপনার মাঝে থেকে থাকে তাহলে খুব ভালো আর না থেকে থাকলে নিচের লেখা গুণ গুলো যদি আপনার মাঝে আনতে পারেন তাহলে আপনার দ্বারাও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হওয়া সম্ভব।

  • আমি আত্ববিশ্বাসী ও দৃড় মনোবল আছে আমার।
  • সহজে হার মানি না।
  • আমি রেগুলা কাজ শিখতে এবং করতে পারব।
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শেখা এবং করার জন্য প্রতি মাসে ৩০০-৪০০ টাকা খরচ করতে আমার সমস্যা হবে না।
  • আমার কম্পিউটারটি মান সম্মত, আমি এতে কাজ করে সাচ্ছন্দ পাই, ব্রাউজারে অনেক গুলো ট্যাব ওপেন করে কাজ করলেও কম্পিউটারটি হ্যাংগ করে না।
  • আমার ইন্টারনেট লাইনটি আনলিমিটেড, সহজে ইন্টারনেট লাইন আমার বন্ধ হয় না এবং আমি খুব সহযেই ইউটিউব ভিডিও দেখতে পারি।
  • আমার কাজ করার সময় আমাকে কেউ ডিস্টার্ব করে না।
  • স্বপ্ন দেখতে ভালোবাশি এবং তা বাস্তবায়ন করতে আমি পরিস্রম করতেও রাজি আছি।
  • খুব সহযে আমি মনোবল হারাই না।
  • যখন যা করি খুব সুন্দর ভাবে করি, সূক্ষ ভুল গুলো আমি সহযে ধরতে পারি।
  • বন্ধু, বান্ধুবি কিংবা লাভার কে সময় দেওয়ার চাইতে আমি আমার ক্যারিয়ার গড়াতে বেশি মনোযোগি।
  • গুগল থেকে খুব সহযেই আমি যে কোন জিনিস সম্পর্কে খুব ভালো ধারনা নিতে পারি।
  • কাজ শুরুর সাথেই টাকা আসতে হবে তা না, আমি চাই অল্প কিংবা বেশি যাই আসুক না কেন তা যেন রেগুলার ভাবে আসুক এতে সময় যা লাগবে আমি দিতে প্রস্তুত।
  • আমি প্রতিদিন নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ কমপক্ষে ৩ ঘন্টা সময় দিয়ে কাজ করতে পারব।

উপরের এই সব গুলো গুন যদি আপনার মাঝে থাকে তবে শুভকামনা রইল আপনার জন্য। সঠিক ভাবে শিখে কাজ শুরু করুন ইনশাল্লাহ আপনি একদিন সফল হবেন। আর যদি আপনার সাথে সব গুলো না মিলে তাহলে নিজের মাঝে পরিবর্তন আনুন কারন মানুষের দ্বারা সব কাজই সম্ভব।

জানি না আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন কি করবেন না, তবে অনেকেই হয়তবা শুরু করতে চায় এবং করবেও। একটি কথা সবারই জানা খুব প্রয়োজন, আপনি যে কাজ ই করেন না কেন সঠিক ভাবে প্লানিং করে কাজে নামলে কাজটি খুব সহযেই করতে পারবেন। তাই যারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে আগাতে চান তাদের জন্য ৮ টি আর্টিকেল লিখব যেন তারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করে তা থেকে প্যাসিভ ইনকাম করতে পারবেন তার সম্পর্কে ভালো ধারনা পান(যদিও ৮ টি আর্টিকেলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংএর সব কিছু শেখা সম্ভব নয়)।

১. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরুর পূর্ববর্তী কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
২. নিস কি এবং কিভাবে নিস সিলেক্ট করবেন।
৩. মার্কেটপ্লেস কি এবং কয়েকটি ভালো মার্কেটপ্লেস।
৪. প্রোডাক্ট এবং মার্কেটপ্লেস সিলেকশন এর কয়েটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৫. কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংএ কাজ করবেন?
৫. সেলস ফানেল কি?
৬. Tracking, Split Test & Optimization.
৭. কিভাবে কোয়ালিটি ট্রাফিক আনবেন?
৮. কিভাবে সেল বৃদ্ধির মাধ্যমে ইনকাম বাড়াবেন?

আমি আবারও বলি হুজুকে মাতাল হয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ নামবেন না। সব কাজই যেমন সহজ তেমনি কঠিন।

আজকে এত টুকুই আশা করি আপনাদের কিছুটা বুঝাতে পেরেছি।
আর সত্যি যদি আপনি কিছু বুঝতে পেরে থাকেন তাহলেই আমার এই লেখা সার্থক।