মেনু বন্ধ করুন

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকদের মজুরি স্কেল ২০১৫ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন | The approval of the state-owned industry-workers wage scale 2015 cabinet.

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকদের মজুরি স্কেল ২০১৫ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সর্বনিম্ন ৮ হাজার ৩০০ এবং সর্বোচ্চ ১১ হাজার ২০০ টাকা করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প

শ্রমিকদের মজুরি স্কেল ২০১৫

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ০২ জুলাই ২০১৮ (সোমবার) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মূল বেতন- ২০১৫ সালের ১ জুলাই এবং ভাতা ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ এর সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের  ও ভাতা অনুমোদন এবং পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কলকারখানার শ্রমিক (চাকরির শর্তাবলি) আইন, ২০১৮’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সময়ে সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকদের বেতন কাঠামো তৈরির জন্য মজুরি কমিশন গঠন করা হয় এবং কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের স্কেল নির্ধারণ করা হয়। এবারও তাই করা হয়েছে। ২০১০ সালের শ্রমিকদের জন্য স্কেল পরিবর্তন করার জন্য কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে এবং এর ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারীদের ২০১৫ সালের বেতন স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০১৫ সালের মজুরি স্কেল প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি এবং বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

২০১০ সালের ১ নম্বর স্কেলে ৪ হাজার ১৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে ৮ হাজার ৩০০ টাকা, ২ নম্বর স্কেলে ৪ হাজার ২০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ৮ হাজার ৪০০ টাকা, ৩ নম্বর স্কেলে ৪ হাজার ২৭৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৮ হাজার ৫৫০ টাকা, ৪ নম্বর স্কেলে ৪ হাজার ৩৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৮ হাজার ৭০০ টাকা, ৫ নম্বর স্কেলে ৪ হাজার ৪২৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৮ হাজার ৮৫০ টাকা, ৬ নম্বর স্কেলে ৪ হাজার ৫০০ থেকে বৃদ্ধি করে ৯ হাজার টাকা, ৭ নম্বর স্কেলে ৪ হাজার ৫৭৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৯ হাজার ১৫০ টাকা, ৮ নম্বর স্কেলে ৪ হাজার ৬৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৯ হাজার ৩০০ টাকা, ৯ নম্বর স্কেলে ৪ হাজার ৭২৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৯ হাজার ৪৫০ টাকা, ১০ নম্বর স্কেলে ৪ হাজার ৮০০ থেকে বৃদ্ধি করে ৯ হাজার ৬০০ টাকা, ১১ নম্বর স্কেলে ৪ হাজার ৮৬৫ থেকে বৃদ্ধি করে ৯ হাজার ৭৫০ টাকা, ১২ নম্বর স্কেলে ৪ হাজার ৯৫০ থেকে বৃদ্ধি করে ৯ হাজার ৯০০ টাকা, ১৩ নম্বর স্কেলে ৫ হাজার ২৫ থেকে বৃদ্ধি করে ১০ হাজার ৫০ টাকা, ১৪ নম্বর স্কেলে ৫ হাজার ১০০ থেকে বৃদ্ধি করে ১০ হাজার ২০০ টাকা, ১৫ নম্বর স্কেলে ৫ হাজার ১৭৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ হাজার ৩৫০ টাকা এবং ১৬ নম্বর স্কেলে ৫ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১১ হাজার ২০০ টাকা করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০১০ সালের মজুরি কাঠামোর মতো মূল মজুরির ৫০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা- ১ হাজার ৫০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা মাসিক -২০০ টাকা, ধোলাই ভাতা মাসিক -১০০ টাকা, উৎসব ভাতা মূল বেতনের সমপরিমাণ, ছুটি নগদায়ন বার্ষিক অর্জিত ছুটির ৫০ শতাংশ অথবা অবসরকালীন ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ লাম্প-গ্রান্ট, কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড মূল বেতনের ১০ শতাংশ, টিফিন ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে মাসিক ২০০ টাকা।

মজুরি কাঠামো ২০১০ এর মতো প্রতিবছর চাকরির জন্য ২ মাসের মূল মজুরির গ্রাচ্যুয়িটি, মূল মজুরির ৩০ শতাংশ তবে ৩ হাজার টাকা পাহাড়ি ভাতা, মূল মজুরির ১০ শতাংশ প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা রোটেটিং শিফট ডিউটি ভাতা, প্রতিরাতে ঘণ্টা প্রতি ১৫ টাকা হারে সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা নাইট শিফট ডিউটি ভাতা, ঝুঁকিভাতা মাসিক ৪০০ টাকা, প্রতিবছর মার্চ মাসে আহরিত মূল মজুরির ২০ শতাংশ হারে নববর্ষ ভাতা, ইতোপূর্বে গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স সুবিধাদি বহাল থাকবে, শিক্ষা সহায়ক ভাতা ১ সন্তানের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা ও ২ সন্তানের জন্য ১ হাজার টাকা ও নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকদের মজুরি স্কেল ২০১৫-

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকদের মজুরি স্কেল ২০১৫